1. admin@dainikprothomprohor.com : admin : News Desk
ভয়ংকর মাদক স্কোপোলামিন: অপরাধীর হাতের পুতুল হয়ে যান ‘টার্গেট’ - দৈনিক প্রথম প্রহর
মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

ভয়ংকর মাদক স্কোপোলামিন: অপরাধীর হাতের পুতুল হয়ে যান ‘টার্গেট’

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ মে, ২০২৩

দেশে ছিনতাইকারী, পকেটমার ও মলম পার্টির পর বাজারে এসেছে ভয়ংকর মাদক স্কোপোলামিন, যা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের শ্বাস’ নামে পরিচিত। এটির মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অর্থাৎ হাতের পুতুল করে সর্বস্ব লুটে নেয় অপরাধীরা।
বর্তমানে দেশে এই ভয়ংকর মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় রয়েছে এ ধরনের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র।

এই মাদকের সংস্পর্শে এলে টার্গেট ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অপরাধীদের কাছে। মাদক স্কোপোলামিনের ব্যবসায় দেশীয় চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরাও। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভয়ংকর মাদক স্কোপোলামিনের মাধ্যমে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে দিয়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করানো সম্ভব। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে টার্গেট করা নারী বা পুরুষের শরীরে এই মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে অপরাধী চক্র তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এছাড়া পানির সঙ্গে মিশিয়েও পান করানো হচ্ছে এই মাদক। শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা পানি খাওয়ার মধ্য দিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তি অপরাধীদের ‘হাতের পুতুলে’ পরিণত হয়। দেশে এ ধরনের মাদকের সন্ধান পায়নি অধিদফতর। তবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়— এমন তথ্য রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে। তারা জানায়, স্কোপোলামিন বা ডেভিলস ব্রেথের ভয়াবহতা ঠেকাতে এরইমধ্যে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। সতর্কতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্কোপোলামিন মাদকটি অপরাধী চক্রের কাছে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের শ্বাস’ নামেও পরিচিত। এই মাদকটি হ্যালুসিয়েশন সৃষ্টিতে কাজ করে। মাদকটি বেশি তৈরি হয় কলম্বিয়ায়, যার বড় বাজার রয়েছে মেক্সিকোতে। মাদকসেবীরা এটি সেবন করে নিজেদের চিন্তাশক্তি হারিয়ে অপার্থিব কল্পনার শক্তিতে চলে যায়। দেশে এই মাদক ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন অপরাধী চক্র। তারা প্রথমে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তার কাছ থেকে মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা নিয়ে নেয়।

সম্প্রতি ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিশ্বাস’ ব্যবহার করে যশোরের এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। এই প্রতারণার দায়ে তিন ইরানি নাগরিকসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারপরই এই মাদক ব্যবহারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরো জানতে পারে—যশোরে টার্গেট করা দোকানে ঢুকে বিদেশি নাগরিকরা তেল কেনার নাম করে প্রথমে ঐ দোকানিকে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। এরপর কাগজটি পড়ার জন্য ওই ব্যবসায়ী যখন চোখ বা মুখের কাছাকাছি নেন, তখন তার আর কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকেনি। তার পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সেই বিদেশি নাগরিকদের কাছে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে দেখতে পায়, সংশ্লিষ্ট ঐ ইরানি নাগরিকরা ব্যবসায়ীকে যা বলছে, তিনি তা-ই করতে থাকেন। ব্যবসায়ী তার ড্রয়ার থেকে নিজ হাতে কয়েক লাখ টাকা অপরাধী চক্রের হাতে তুলে দেন। তারপর সেই টাকা নিয়ে চম্পট দেয় অপরাধী চক্রের সদস্যরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন্স ও গোয়েন্দা) তানভীর মমতাজ বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের অভিযানে এ ধরনের কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের কাছে যেসব গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যখনই যে ধরনের মাদকের বিষয়ে তথ্য আসে, আমরা সে অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছি।

যে কেউ যেকোনো সময় এ ধরনের মাদকের অপব্যবহারের ফাঁদে পড়তে পারেন উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র বলেন, স্কোপোলামিন নামের এই মাদকটি হ্যালুসিয়েশন সৃষ্টি করে থাকে। মাদক মাখা কোনো কাগজ টার্গেট ব্যক্তির সামনে এনে ধরলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তার শরীরে ঢুকে যায়। তখন ঐ ব্যক্তি অপরাধীর ‘হাতের পুতুল’ হয়ে যান। এক কথায় রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে যেভাবে কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ঠিক সেভাবেই টার্গেট ব্যক্তিদের এই মাদক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এভাবে অপরাধী চক্রগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। এমনকি টার্গেট ব্যক্তিকে দিয়ে যেকোনো ধরনের অঘটনও ঘটানো সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
কপিরাইট © ২০২২ দৈনিক প্রথম প্রহর. কম
ডিজাইন ও ডেভেলপ : ডিজিটাল এয়ার