1. admin@dainikprothomprohor.com : admin : News Desk
নৌকা সমর্থকদের চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্যাডারদের - দৈনিক প্রথম প্রহর
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১০:১৭ অপরাহ্ন

নৌকা সমর্থকদের চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্যাডারদের

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

পিরোজপুর প্রতিনিধি,

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কর্মী-সমর্থকদের ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছে ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএমএ আউয়ালের কিছু কর্মী ও চিহ্নিত ক্যাডাররা।

এ ঘটনায় নৌকার সমর্থকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটাররা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃংখলা বাহিনী কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ নৌকা সমর্থকদের।

সম্প্রতি স্বতন্ত্র প্রার্থী আউয়ালের ভাই পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক এবং পৌর কাউন্সিলর আবুয়াল শিকদার প্রকাশ্য জনসভায় এই হুমকি দেন। এসব হুমিকর ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের বক্তব্য ও কার্যকলাপকে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পিরোজপুরের পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বলছেন, আমরা শুনেছি নাজিরপুরের অনেক লোকজনকে এখন থ্রেট দেয় (ভয় দেখান)। কিন্তু আমাদেরকে যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখানোর চেষ্টা করেন, আমরা তাদের চক্ষু তুলে দেয়ার ক্ষমতা রাখি।

এছাড়াও অপর এক ভিডিওতে দেখা যায়, আবুয়াল সিকদার স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএমএ আউয়ালের সমর্থনে একটি জনসভায় প্রকাশ্যে একই রকমভাবে হুমকি দেন। মন্ত্রীর নাম ধরে ওই জনসভায় আবুয়াল শিকদার বলেন, আপনারা তাকে চেনেন নাই, আমি ছোটকাল হতে চিনি। রেজাউল করিম একজন খুনি। তুমি এই দুই নং ওয়ার্ডবাসীর কাউকে কোন লোক দিয়ে যদি চক্ষু লাল করাও, তার চোখ আমরা তুলে দেব। এটা দুনিয়ার কেউ রাখতে পারবে না। আমি তোমারে (মন্ত্রী রেজাউলকে) বলতে চাই, তুমি যেভাবে আছো, সেভাবে ঠান্ডাভাবে নির্বাচন করে মাঠ থেকে ওঠো।

অপর এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আউয়াল পরিবারের ঘনিষ্ঠ কর্মী রফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, পিরোজপুর সদর উপজেলা এবং পৌরসভায় যেন নৌকার কোন এজেন্ট না দিতে পারে। ভোট তো দূরের কথা, কোন এজেন্ট যেন না দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

একই ভাবে পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাদউল্লাহ লিটন নৌকার প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম ও তার পরিবার সর্ম্পকে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছে। তবে এসব ভিডিওর ব্যাপারে টেলিফোনে চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নৌকার প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি শান্তি প্রিয় মানুষ। নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে আমার নেতা কর্মীরাও আচরণ বিধি মেনে কাজ করছেন। আমার নেতা-কর্মীদের হুমকিদাতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আউয়ালের কর্মী আবুয়াল শিকদারকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনিনা। যতটুকু শুনেছি তিনি বিএনপি রাজনীতি করেন এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি গাজী নুরুজ্জামান বাবুলের দেহরক্ষীর মতো চলতেন। এমনকি তার অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে তিনি চলতেন। এছাড়া তার পেশা কসাই বলে শুনেছি। তিনি পৌরসভার একজন কাউন্সিলর।

স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএমএ আউয়ালের পক্ষে প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন যা নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপন্থী। এছাড়া তিনি আমার সমর্থকদের চক্ষু উৎপাটন করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরো বলেন, আবু কসাই ওরফে আবুয়াল সিকদারের এই জাতীয় বক্তব্য ভাইরাল আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেও রিটার্নিং অফিসারসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় আমি খুবই আতঙ্কিত। আগামী ৭ তারিখ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি এই আবুয়াল সিকদারদের মতো ভাড়াটে মাস্তান, উশৃঙ্খল, বেয়াদব এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এছাড়া তারা চক্ষু উৎপাটনের হুমকি দিয়ে নিরীহ শান্তি প্রিয় ভোটারদের ভীত সন্ত্রস্ত করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। তাদের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও এজেন্ট দিতে না দেয়া সম্পর্কে বক্তব্যকে শুধু নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ নয় জনপ্রতিনিধিত্ব ও আদেশ ১৯৭২ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিস্থিতি নষ্ট করার জন্য এ জাতীয় হুমকিদাতা যারা, তাদের সকলের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
কপিরাইট © ২০২২ দৈনিক প্রথম প্রহর. কম
ডিজাইন ও ডেভেলপ : ডিজিটাল এয়ার